গত ০১ মার্চ – রবিবার রাতে বাগমারায় মোঃ আলী ( আলী ড্রাইভার ) নামক সিএনজি ড্রাইভারকে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মারধর করেন বাগানবাজার বিএনপি নেতা আবু মেম্বারের ভাই মনির। তিনি বাগানবাজার বিএনপি-র সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি ড্রাইভার যাত্রী বাড়িতে পৌছে দিয়ে ফিরে আসার সময় তার গাড়ির সাথে বৈদ্যুতিক তার লেগে সেটি ছিড়ে যায়। তার পরিপেক্ষিতে আব্দুল হক এর বাড়ির বৈদ্যুাতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঐ বাড়ি থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কিছু ছেলে এসে তাকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, তারা তখন ঐ ঘরে বসে ই*য়া*বা সেবন করিতেছিলো। তাই তারা তার উপর বিরক্ত হয়ে তারসাথে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
সাথে সাথে ঘটনাটি তিনি বাগানবাজার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন (আবু মেম্বার ) কে জানান। আবুল হোসেন বাড়ির মালিক আব্দুল হক-থেকে মুঠোফোনে সত্যতা যাচাই করেন এবং সত্যতা পান, সে-সাথে আবুল হোসেন নীরব ভূমিকা পালন করেন বলে জানান আলী ড্রাইভার।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সিএনজি ড্রাইভার বাগমারা বাজার এ আবু মেম্বার এর ভাই মনিরকে কাছে পেয়ে বিষয়টি অবগত করেন। কিন্তু তার পরিপেক্ষিতে তিনি সিএনজি ড্রাইভারকে মারধর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি তখন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিলেন। তাই এই ধরনের আচরণ করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত ০৩ মার্চ – সোমবার ভুক্তভোগী সিএনজি ড্রাইভার বাগানবাজার বিএনপির সাবেক সভাপতি ওহিদুর রহমান (ওদু সওদাগর )-র ছেলে সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন এম.এ নিকট বিচার দাবী করেন । জবাবে তিনি বলেন, আপনার বিচার সারোয়ার আলমগীর( ফটিকছড়ি-২ এর সংসদ সদস্য ) করবে। এই বলে সিএনজি ড্রাইভারকে মোঃ আলী ( আলী ড্রাইভার ) কে শান্তনা দেওয়া হয়।
এই ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপি উচ্চ পর্যায় নেতাকর্মীদের মতামত জানতে চাওয়া হলে কোন জবাব পাওয়া যায় নাই। তবে আবুল হাসেম মেম্বার বলেন- এই বিষয়ে আমার স্পষ্ট কিছু অভিমত আছে:-
১. ব্যক্তি নয়, পদ্ধতিই শেষ কথা: বিচার পাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রভাব বা দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করা একটি আদর্শ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। বিচার হওয়া উচিত একটি স্বচ্ছ সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে অপরাধীর পরিচয় যা-ই হোক, তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে।
২. নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা: জনপ্রতিনিধি বা সমাজনেতাদের প্রধান কাজ হলো নিপীড়িতের পাশে দাঁড়ানো। যখন কোনো নেতার আপনজন অপরাধে লিপ্ত হয়, তখন বিচার না করে নীরব থাকা প্রকারান্তরে অপরাধকেই উৎসাহিত করা। নেতৃত্ব মানেই হলো ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আপোষহীন থাকা।
৩. সামাজিক প্রতিরোধ: মাদকাসক্তি বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধে আমাদের সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বা স্থানীয় বিচারিক প্রক্রিয়াকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে যাতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচার ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
আমি বিশ্বাস করি, সমাজ থেকে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হলে আমাদের ব্যক্তিকে পাশ কাটিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় আমি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।