মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫ | ঢাকা ২৮°সে
অপরাধ ৫ এপ্রিল ২০২৬

মহিউদ্দিন ও আবু মেম্বারের স্বজনপ্রীতির কারণে বিচারহীনতায় ভুগছেন বৃদ্ধ ইউনুস মিয়া

আব্দুল করিম
সিনিয়র রিপোর্টার, রাজনৈতিক বিট

বাগানবাজার ৪নং ওয়ার্ড মতিনগর গ্রামের এক অসহায় বৃদ্ধ ইউনুস মিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারের শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের বসতবাড়ির গাছ ও বাঁশ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যাওয়া, দোকানের মালামাল লুট এবং শারীরিক নির্যাতনের মতো একাধিক ঘটনার পরও তিনি কোনো ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন বৃদ্ধ ইউনুস মিয়া।

ভুক্তভোগী ইউনুস মিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, তার নিজস্ব জমির গাছ ও বাঁশ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি বাধা দিলেও কোনো ফল হয়নি। স্থানীয় সাবেক মেম্বার মোঃ আবুল হোসেন (আবু মেম্বার) ও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মহিউদ্দিনের কাছে একাধিকবার বিচার প্রার্থনা করলেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে তিনি জানান।

এছাড়া কয়েক মাস আগে ইউনুস মিয়ার নিজের দুই ছেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি থানায় মামলা করলে পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দেয় বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমানে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস মিয়ার দুই ছেলে প্রায় ২০-২৫টি আকাশি গাছ বিক্রি করে দেয়, যা কিনে নেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর যিনি মহিউদ্দিনের ফুফাত ভাই কামাল উদ্দিন এর শ্যালক। জাহাঙ্গীরকে বাধা দেওয়া সত্ত্বেও গাছ কাটা বন্ধ হয়নি। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে কামাল উদ্দিন (মহিউদ্দিনের ফুফাত ভাই), জাহাঙ্গীর (কামালের শ্যালক), নুর আলম (কামালের শ্যালক), নুর নবীসহ (মহিউদ্দিনের জেঠাতো ভাই) কয়েকজনের সহযোগিতায় ইউনুস মিয়ার দোকান থেকে মালামাল লুট করা হয় এবং তার লাগানো বিভিন্ন ফসল ও ফলের গাছ থেকেও জোরপূর্বক ফল নিয়ে যাওয়া হয়। তাছাড়া মিয়া ড্রাইভার, লোকমানের ভাতিজা করিম, মহিউদ্দিনের সহযোগী নবী ড্রাইভার তাহার ইউনুস মিয়ার ছেলে থেকে মোটা অঙ্গের টাকার বিনিময়ে ইউনুস মিয়াকে মারধর করেন। এসব ঘটনায়ও স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে বিচার চেয়ে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি রাতে বাড়ি ফেরার পথে ইউনুস মিয়াকে পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক দুটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরদিন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো সেই কাগজ উদ্ধার করা হয়নি, বরং উল্টো তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ ঘটনায়, ইউনুস মিয়ার দুই ছেলে তার বাড়ির বাঁশ কেটে স্থানীয় নুর আলমের কাছে বিক্রি করে দেয়। বাধা দিলেও কোনো লাভ হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে ইউনুস মিয়া সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন এবং তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মহিউদ্দিনের আত্মীয়রা চিকনছড়া এলাকায় বিচার শালিস বানিজ্য, লুটপাট, অত্যাচার, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। এদের এই সকল অন্যায়ের বিপক্ষে যারাই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তারাই হচ্ছেন তাদের কর্তা। দিনদিন লোকমান ও মহিউদ্দিন এই অঞ্চলটাকে নরগে পরিণত করছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা । থানার পুলিশ প্রশাসন থেকে সবই তাদের নিয়ন্ত্রণে তাই বৃদ্ধ ইউনুস মিয়া পুলিশের সহযোগীতা চেয়েও কোনো সহযোগীতা পাননি।

এই ব্যাপারে মহিউদ্দিন ও আবু মেম্বারের নিকট মতামত জানতে চাওয়া হলে কোনো মতামত পাওয়া যায় নি। উল্লেখ্য যে, পূর্বে আবু মেম্বারের ভাই মনির বাগামার সিএনজি ড্রাইভারকে মারধর করার বিচার মহিউদ্দিন ও আবু মেম্বার করার কথা থাকলেও কেউই এই বিচারটি করেননি। একই সাথে ইউনুস মিয়ার সাথে ঘটনাটির বিচার আবু মেম্বার করার কথা থাকলেও দলীয় সক্ষতার ও মহিউদ্দিনের আত্মীস্বজন জড়িত থাকায় তিনি বিচারটি করেন নি।

স্থানীরা আরো জানান, মহিউদ্দিন ও আবু মেম্বার কিংবা লোকমান তাহারা তাদের কর্মী কিংবা দলীয় লোকদের কোন বিচার করেন না। দুর্বল ও অসহায়দের বিচারের দিকে তাদের আগ্রহ বেশি এবং সেখান থেকে কখনো কখনো আর্থিক লেনদেন এর গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)