বাগানবাজার গ্রাফ-র এডমিন বা তথ্যদাতা সন্দেহে মোবাইল জব্দ ও তল্লাশি অভিযোগ উঠে মহিউদ্দিন ও তার কর্মীবাহিনীর বিরুদ্ধে।
গতকাল মাদক বহন করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ইউনুস নামে এক মোটরসাইকেল চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহিন ও নবীর বিরুদ্ধে।
এই প্রতিবদেনটি বাগানবাজার গ্রাফ করার পর মহিউদ্দিন ও তার কর্মীবাহিনী বাগানবাজার গ্রাফ-র এডমিন বা তথ্যদাতা সন্দেহে একের অধিক ব্যাক্তিদের মোবাইল তল্লাসি করেন এবং উচ্চস্বরে ধমক ও হুমকি দেন। যাদের মোবাইল জব্দ ও তল্লাশি করা হয়েছে তাদের কেউ দলীয় কর্মী কিংবা মহিউদ্দিনের সহযোগী। কেউ ব্যবসায়িক কিংবা ভোক্তভোগী। এই তালিকায় রয়েছেন ছাত্র কিংবা সচেতন স্থানীয় বাসিন্দা।
তাছাড়া ‘বাগানবাজার গ্রাফ’ ইউনুস নামে ভুক্তভোগীর প্রতিবেদন করার পর, তাকেও জোরপূর্বক ভিডিও করার অভিযোগ উঠে। যেখানে সে ভয়ে তাহারা যাহা শিখিয়ে দিয়েছে তা ভিডিওতে বলে। ভিডিওতে সে বলে সে ঘটনাস্থলে ছিলো না, কিন্ত মহিউদ্দিনের ভাতিজা করিম আমাদের মেসেজের মাধ্যমে বলেছে সে ঐস্থানে ঘটনার সময় ছিলো। প্রত্যক্ষদর্শী তিনজনের মাধ্যমে পুণরায় যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগকারী জানান, ইউনুস ভয়ে তাদের শিখানো কথা ভিডিওতে বলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যদি কারোর মেবাইলে গ্রাফ-র কোন সংম্পৃতা পেতো তাহলে তাদের হাত পা ভেঙ্গে দিতো। বাগানবাজার গ্রাফ-র নিকট পূর্বে কিছু অভিযোগ এসেছে মহিউদ্দিনের আত্মীয়-স্বজনরা চিকনছড়া বাজার ও আধারমানিক বাজার একের অধিক ব্যাক্তিদের হুমকি দিয়েছেন। এখনো সেই হুমকি বিরাজমান। হুমকি দাতারা হলো, নবী, করিম, লোকমান, দুলাল সওদাগর, টিপু ও শাহিন। এরা কেউ মহিউদ্দিনের ভাতিজা-ভাগিনা কিংবা ভাই। এছাড়াও রয়েছেন মিয়া ড্রাইভার, জাহাঙ্গীর ও কামাল উদ্দিন।
এছাড়াও জসিম মেম্বার বিরুদ্ধেও এই ধরনের অভিযোগ গত এক সপ্তাহে আগে। যখন তার বিরুদ্ধে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘বাগানবাজার গ্রাফ’, সেই ক্ষোভ বা রাগ থেকে এই ধরনের আচরণ করেন। অভিযোগকারীরা জানান, কাউকে কাউকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে. কারো কারো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, কারো কারো পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাগানবাজার গ্রাফ-র নিতীনির্ধারকরা জানান, আমাদের মহিউদ্দিন ও তার আত্মীয়-স্বজনদের অনেকগুলো অভিযোগ নিয়ে যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ব্যাপারে মহিউদ্দিন ও তার আত্মীয়-স্বজনরা অবগত। কারণ এই অভিযোগুলোর বিষয় তাদের নিকট মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। তাই তারা এই ধরনের অন্যায়গুলো শুরু করেছে, এটি কোনোভাবে একজন জনপ্রতিনিধির নিকট কাম্য নয়। আমাদের নিকট এই অভিযোগও এসেছে- তাহারা এডমিন সন্দেহে কোনো একজনের হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও আমরা মনে করি, এই ধরনের পরিকল্পনা তাদের রাজনৈতিক জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে।
এই ব্যাপারে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব, এড. ইউসুফ আলম মাসুদ বলেন- কোনো লেখা বা বক্তব্য কারো বিরুদ্ধে গেলেই হয়রানি, হামলা বা হুমকি দিয়ে থামানোর চেষ্টা ফ্যাসিবাদী আচরণ। আমাদের উচিত সমালোচনাকে গ্রহণ করে নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। আমাদের অনেকের আচরণ খুবই উগ্র যা অস্বীকার করার উপায় নেই। পীপিলিকার পাখা গজানোর মতো হলে পরিনতিও তাই হবে! অন্যদিকে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ায়, সাইবার বুলিং বা মানহানি করে আইনে প্রতিকার আছে। সুতরাং সবাইকে সিরাতুল মুসতাকিমের পথ অবলম্বন করার আহবান করছি।