বাগানবাজার এলাকায় শাহাজাহান সিকদারকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ও বিতর্ক যেন থামছেই না। স্থানীয়দের মুখে মুখে তিনি এখন এক আতঙ্কের নাম- অনেকে তাকে এই এলাকার নতুন এক প্রভাবশালী অপরাধী চরিত্র হিসেবেই দেখছেন।
জানা যায়, ৫ আগস্টের আগে শাহজান সিকদার আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে তার অতীত নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সে সময় তিনি চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এসব অভিযোগে দীর্ঘ সময় কারাভোগও করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তার অবস্থানে পরিবর্তন আসে। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নূরনবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়দের দাবি, নূরনবী এমন কোনো অপরাধ নেই যা শাহজাহানকে দিয়ে করাননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে দুজনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনাও ঘটে। একটি সূত্র জানায়, কোনো একটি স্থান থেকে চাঁদা আদায়ের পর সেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। শাহজাহান দাবি করেন, তাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হোক, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে- নূরনবী তাকে সেই পরিমাণ দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজাহান প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নূরনবীর শার্টের কলার ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে ধাক্কা দেন। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সিকদারখীল এলাকার অনেক মানুষকে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি মজিবুল হক মজুমদারের একটি রাবার বাগানে গিয়ে শাহজাহান হামলা চালান বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কর্মরত স্টাফদের মারধর, ভাঙচুর এবং বাগান দখলের চেষ্টার পাশাপাশি চাঁদা দাবি করার ঘটনাও উঠে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শাহজাহান সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানা যায়। এর আগেও সে মজিবুল হক মজুমদারের পরিবার থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে।
এর বাইরে আঁধার মানিক এলাকা থেকে হাকিম আলী মার্কেট হয়ে কাশেম মেম্বারের আশ্রয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের একাংশ বলছে, ৫ আগস্টের পর নূর-নবীর আশ্রয়ে থেকেই তিনি সিকদারখীল এলাকার একটি দোকানে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও এ ঘটনায় তাকে হাতেনাতে ধরা যায়নি এবং তিনি নিজেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবুও অনেকেই তার সংশ্লিষ্টতার কথা জোর দিয়ে বলছেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মে সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে এক ভুক্তভোগীকে পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয় শাহজাহান ও তার সহযোগী মোঃ ইব্রাহিম (গজারিয়া) ও মোঃ মহিউদ্দিন(রসূলপুর)। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। প্রাণনাশের ভয়ে ভুক্তভোগী বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে গুরুতর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী দাবি করেন, এই ঘটনাটি ঘটানোর জন্য সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছেন কাসেম মেম্বার পরবর্তীতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
একই ধরনের আরেকটি ঘটনায়, ইকবাল নামে এক যুবকের গতিপথরোধ করে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় কাসেম মেম্বার ও বাবলু নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগিতার কথাও উঠে এসেছে।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। মোবাইলে থাকা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয় । এরপর থেকেই ওই যুবক চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তার দাবি, প্রাণের ভয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। বিচার পাওয়ার আশায় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি।
সর্বশেষ ’বাগানবাজার গ্রাফ’ টিম ও এড. ইউসুফ আলম মাসুদ এর সমন্বয়ে ভুক্তভোগীদের আইনী সহযোগীতার ব্যবস্থা করা হয়।