মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫ | ঢাকা ২৮°সে
মাদক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কিশোর গ্যাং, প্রভাবের ছায়া, ইয়াবা বাণিজ্য- সবকিছুই চলে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সাকিবের হুকুমে

আব্দুল করিম
সিনিয়র রিপোর্টার, রাজনৈতিক বিট

বাগানবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জল হক সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক সূত্র থেকে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ এবং “বাগানবাজার গ্রাফ”-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, সাকিব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুলের প্রভাব খাটিয়ে বাগানবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গার্ডের দোকান এলাকা এবং রামগড় চা বাগানের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ৫–১০ জনের একটি চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ইয়াবা বিক্রি করে এবং সে নিজেও ইয়াবা সেবন করে।

একাধিক সূত্র জানায়, সাকিবের ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে যুবদলের কর্মী আমির রয়েছে। খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে রিপন (পিতা: খোরশেদ, পেশায় ড্রাইভার)। জানা যায়, রিপনের বাবা একসময় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, বর্তমানে তিনি বাবুল চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আরিফ নামের আরেকজন রয়েছে, যাকে স্থানীয়রা মুকতলের ভাতিজা হিসেবে চেনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ ও সাকিব প্রতিদিন রামগড় চা বাগানের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় ৫–১০ জনের একটি চক্র নিয়ে ইয়াবা বিক্রি করে। অন্যদিকে রিপন নতুন বাজার রোডে একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ে ইয়াবা বিক্রি করে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, গার্ডের দোকান এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সাকিব একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে সে লোকজনকে হুমকি-ধমকি দেয়। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

এ বিষয়ে বাগানবাজার গ্রাফ ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, অভিযোগটি সত্য- ছাত্রদলের দুজন সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একজনকে নিয়ে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, আরেকজন হচ্ছেন বর্তমানে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে তারা দাবি করেন, সাকিবের এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে বাবুল চেয়ারম্যানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের বক্তব্য, বাবুল চেয়ারম্যানের ভাই লায়েছের ছত্রছায়ায় সাকিব এই ব্যবসা পরিচালনা করে। বাবুল চেয়ারম্যান ইউনিয়ন বিএনপির অভিভাবক হওয়ায় তার পরিচয় ব্যবহার করে তারা প্রভাব বিস্তার করছে। কিন্তু তিনি এসব বিষয়ে অবগত নন এবং এগুলোতে প্রশ্রয় দেন না। তারা আরও বলেন, বাবুল চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ, তবে তার ভাই লায়েছ উশৃঙ্খল- এসব কার্যক্রম তার ছত্রছায়ায়ই হচ্ছে।

ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বর্তমান ছাত্রদলের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে ক্ষুদে বার্তায় অনুরোধ করেন – “বর্তমান বাগানবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলে যারা নেতৃত্বে আছো, তোমাদের প্রতি অনুরোধ- তোমরা আদর্শিক হও। কঠিন সময়ে প্রতিকূল পরিবেশে তোমরা লড়াই করেছো, এখন সুসময়ে হারিয়ে যেও না। ক্যারিয়ার গড়ো, সম্মান অর্জন করো। তোমাদের গায়ে কোনো কাদামাটি লাগতে দিও না। রাজনীতির পাঠশালায় তোমরা প্রাথমিক ধাপে আছো, ক্যারিয়ারটা বড় হতে দাও। মনে রেখো, আমরা যা-ই করি না কেন, বর্তমানে কিছুই গোপন থাকে না। নিজেকে অঙ্কুরেই বিনাশ হতে দিও না।”

একইভাবে ‘এড. ইউসুফ আলম মাসুদ’ বর্তমান ছাত্রদলের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে ক্ষুদে বার্তায় পরামর্শ দেন – “মাদক নিজের জন্য যেমন ক্ষতিকর, সমাজ ও দেশের জন্যও তেমনি ক্ষতিকর। প্রচলিত আইনে মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিজের অজান্তে হলেও যারা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন, দয়া করে নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হলেও এই অন্ধকার জগত থেকে বেরিয়ে আসুন প্লিজ।”


Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x250)
Ad Banner (300x600)