বাগানবাজার কামাল মার্কেট এলাকা থেকে দুই মাদককারবারী গাঁজাসহ আটক
বাগানবাজার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়ে পুলিশ রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে। রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওয়ার্ড ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রমজানকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালালে পুলিশ তার বাবা বাবুল মিয়া ওরফে ‘বান্দর ওয়ালা’ (৬৫)-কে মাদকসহ আটক করে। বাবুল মিয়া নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন বলে জানা গেছে। পরে ঘরের সুকিচের তালা ভেঙে আরও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগানবাজার ভারত সীমান্তবর্তী আঁধার মানিক চা বাগান সংলগ্ন কামাল মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ কেজি গাঁজাসহ ইয়াছিন (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ইয়াছিনের পিতা আমির মিয়া বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে পরিচালিত অভিযানে ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা করিমুল হক রুবেল (ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক – কাসেম মেম্বার-এর সহযোগী ) আটক ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ইয়াছিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তার ডিলার হিসেবে কাজ করেন বিএনপি নেতা নাজমুলের ছোট ভাই আরমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের নিরাপদ রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের আরও অভিযোগ, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে কমিশন ভিত্তিকভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।