বাগানবাজার সরকারি বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটার হুকুমদাতা বিএনপি নেতা মুমিন ও আলম
বাগান বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর মাঠ সংলগ্ন এলাকায় সংরক্ষিত সরকারি গাছ কাটার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুমিন এবং তার সহযোগী আলমের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, গত কয়েকদিনে দুই দফায় গভীর রাতে গাছ কাটার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের বাধার মুখে অভিযুক্তরা সরে যায়। সর্বশেষ গতকাল গভীর রাতেও একই ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রসহ আলম ও অজ্ঞাতনামা আরো চারজনের একটি দল রাতের অন্ধকারে এলাকায় প্রবেশ করে গাছ কাটার চেষ্টা চালায় এবং এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। রাত প্রায় ২টার দিকে গাছ পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে সেহেরির সময় আবারও গাছ কাটার চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসীর ধাওয়ায় তারা সরে পড়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুমিনের সহযোগী আলম-কে মহল্লায় অস্বাভাবিকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়রা এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলম জানান, তাকে মুমিন গাছ পাহারার দায়িত্ব দিয়েছে। একই ব্যক্তি দাবি করেন, রাত ২টার দিকে গাছ পড়ার শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আলমকে অস্ত্রসহ দেখা গেছে। তার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি দূর থেকে মুমিনের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।
এলাকার আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, “আমরা আলমকে দেখেছি, তবে বাতাসে আরও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি এত সহজ নয়। এখানে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।”
এদিকে, ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে স্থানীয়রা বন বিভাগের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
একই সাথে এড.ইউসুফ আলম মাসুদ ফেসবুক পোস্ট এর মাধ্যমে জানান, ভোররাতে বাগান বাজার ইউনিয়নে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটার ঘটনায় আমি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট অফিসের সাথে কথা বলে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছি।
অন্যদিকে মুমিন এড.ইউসুফ আলম মাসুদের উক্ত ফেসবুক পোস্ট এর কমেন্ট-এ বলেন- আমিও বিট কর্মকর্তার সাথে কথা বলতেছি তাদেরকে মামলা দিয়ে বিচারের আওতায় আনা হোক।
একই সাথে বাগানবাজার গ্রাফ থেকে এড. ইউসুফ আলম মাসুদের নিকট মুমিন এবং আলম এর সম্পৃক্ততা বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান – বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট অফিসারের সাথে আমার কথা হয়েছে। কারা ঘটনার সাথে জড়িত তদন্ত করে আমাকে জানাবে এবং মামলা করবে। যদি আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত থাকে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিবো।